10:25 pm, Thursday, 21 May 2026

“রামিসার বাবার কষ্ট আমাদের সবার কষ্ট” — আইনমন্ত্রী

মাগুরার আসিয়া এবং ঢাকার রামিসা হত্যাকাণ্ড মানুষের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এমন অপরাধ কোনোভাবেই বিচারহীন থাকতে দেওয়া হবে না এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি রামিসার বাবার ক্ষোভ ও হতাশার বক্তব্যের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “রামিসার বাবা যেটা বলেছেন, সেটা উনার অনুভূতির জায়গা থেকে বলেছেন। এটাকে অমূলক বলবো না। দেশের বিচার ব্যবস্থায় যে মামলার জট রয়েছে, তা নিরসনে আমরা পদক্ষেপ নেবো। রামিসার বাবার কষ্ট আমাদের সবার কষ্ট।”

তিনি আরও বলেন, “তার হতাশার একমাত্র উত্তর হবে— যদি আমরা বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারি। তা না হলে উনার কথাই সত্যি প্রমাণিত হবে।”

আসিয়া হত্যা মামলার উদাহরণ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমাদের হাতে যতটুকু ছিল, ৭ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিয়েছিলাম এবং এক মাসের মধ্যে বিচার শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”

তবে রায় কার্যকরে আইনি জটিলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু পেপারবুক তৈরির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্ব ঘটে।

তিনি বলেন, “আগের বছরের ডেথ রেফারেন্স শেষ না করে পরের বছরেরটা নেওয়া যায় না। আমি মনে করি, এটা ভুল পদ্ধতি। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পেপারবুক নির্ধারণ করা উচিত।”

রামিসা হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে।”

আদালতের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে মামলাকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাকে নেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলাগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হবে না। তিনি বলেন, “কোনো ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের বিবেচনার তালিকাতেই আসবে না।”

তিনি জানান, এসব মামলার বিচার দ্রুত করতে আলাদা ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজন নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই দ্রুত বিচার সম্ভব।

সবশেষে তিনি বলেন, “এসব অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে না পারলে সমাজে খারাপ বার্তা যাবে। রামিসার ঘটনার বিচার ফাস্ট ট্র্যাকে নিয়ে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

 

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

18 + 11 =

About Author Information

জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের উদ্যোগে ‘অ্যাস্ট্রোনমি টু প্যালিওন্টোলজি’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

“রামিসার বাবার কষ্ট আমাদের সবার কষ্ট” — আইনমন্ত্রী

Update Time : ০৫:০৬:৪৭ pm, Thursday, ২১ মে ২০২৬

মাগুরার আসিয়া এবং ঢাকার রামিসা হত্যাকাণ্ড মানুষের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এমন অপরাধ কোনোভাবেই বিচারহীন থাকতে দেওয়া হবে না এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি রামিসার বাবার ক্ষোভ ও হতাশার বক্তব্যের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “রামিসার বাবা যেটা বলেছেন, সেটা উনার অনুভূতির জায়গা থেকে বলেছেন। এটাকে অমূলক বলবো না। দেশের বিচার ব্যবস্থায় যে মামলার জট রয়েছে, তা নিরসনে আমরা পদক্ষেপ নেবো। রামিসার বাবার কষ্ট আমাদের সবার কষ্ট।”

তিনি আরও বলেন, “তার হতাশার একমাত্র উত্তর হবে— যদি আমরা বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারি। তা না হলে উনার কথাই সত্যি প্রমাণিত হবে।”

আসিয়া হত্যা মামলার উদাহরণ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমাদের হাতে যতটুকু ছিল, ৭ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিয়েছিলাম এবং এক মাসের মধ্যে বিচার শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”

তবে রায় কার্যকরে আইনি জটিলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু পেপারবুক তৈরির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্ব ঘটে।

তিনি বলেন, “আগের বছরের ডেথ রেফারেন্স শেষ না করে পরের বছরেরটা নেওয়া যায় না। আমি মনে করি, এটা ভুল পদ্ধতি। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পেপারবুক নির্ধারণ করা উচিত।”

রামিসা হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে।”

আদালতের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে মামলাকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাকে নেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলাগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হবে না। তিনি বলেন, “কোনো ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের বিবেচনার তালিকাতেই আসবে না।”

তিনি জানান, এসব মামলার বিচার দ্রুত করতে আলাদা ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজন নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই দ্রুত বিচার সম্ভব।

সবশেষে তিনি বলেন, “এসব অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে না পারলে সমাজে খারাপ বার্তা যাবে। রামিসার ঘটনার বিচার ফাস্ট ট্র্যাকে নিয়ে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

 

শু/সবা