০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তরাঞ্চলে ঘনকুয়াশায় বোরোর বীজতলা চিন্তিত কৃষক

প্রচন্ড শীত ও ঘনকুয়াশায় রংপুর অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি।
মনে হয় সূর্য মামা অভিমান করে লুকিয়ে আছে। দিনভর থাকছে ঘন কুয়াশা। ফলে বোরো ধানের
বীজতলা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে অঞ্চলের কৃষকগণ। বৈরী আবহাওয়ায় বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায়
দিনরাত পরিশ্রম করছে কৃষকরা। রাতভর পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছে, সন্ধ্যায় পানি জমিয়ে
রেখে ভোরে পানি বের করে দিচ্ছেন। আবার সকাল-সন্ধ্যা চারার গা থেকে লাঠি দিয়ে কুয়াশা ঝরিয়ে
দিচ্ছেন তারা। রোপা আমন কাটা-মাড়াই শেষে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষকগণ বোরো ধান চাষের
প্রস্তুতি নেন। বীজতলা থেকে ৪০-৪৫ দিন বয়সী চারা তুলে জমিতে রোপণ করতে হয়। বীজতলার ১০-১৫
দিন বয়সী সবুজ চারা এখন হলদে বর্ণ হচ্ছে। চারার পরিপূর্ণ বৃদ্ধির সময়ে এ অঞ্চলে ঘন
কুয়াশাসহ বিরাজ করছে বৈরী আবহাওয়া। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ঘন কুয়াশা থেকে বীজতলা
রক্ষায় অনেকে ছত্রাকনাশক ¯েপ্র করছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ার গজঘণ্টা এলাকার কৃষক আব্দুর সবুর বলেন,
এক দোন (২৪ শতক) জমিতে বোরো চাষে চারা কিনতেই যাবে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। বীজতলা
নষ্ট হলে দাম আরও বেড়ে যাবে। এ জন্য তিনি নিজের বীজতলা পরিচর্যা করছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ
উপজেলার নতুন দুলাল গ্রামের শাহজাহান বাদশা মিয়া বলেন , কয়েক দিন আগে তিনি ৩০ কেজি
ধানের বীজতলা করেছেন। ৪/৫ দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় চিন্তিত তিনি। তার বীজতলার
চারা ইতিমধ্যে হলদে রং ধারন করেছে। সকাল-সন্ধ্যা কুয়াশার কবল থেকে রক্ষা করতে পলিথিনে বীজতলা
ঢেকে রাখা হচ্ছে। পানিতে বীজতলা সারারাত ডুবিয়ে রাখা হয়। সকাল হলে ওই সব পানি বীজতলা
থেকে বের করে দেওয়া হয়। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, কুয়াশা ও অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলার চারা হালকা
হলদে রং ধারণ করে। বৃদ্ধি কমে যায়। এক পর্যায়ে লালচে রং নিয়ে চারাগুলো মারা যায়। চাষিরা নানা
উপায়ে বীজতলায় কুয়াশার প্রকোপ ঠেকিয়ে দিতে পারলে চারা কম নষ্ট হবে। কৃষি সম্প্রসারণ
অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের নীলফামারী,
রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার জেলায় ৫ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ
করা হবে। প্রতি হেক্টর জমির বীজতলা থেকে ২০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা যায়। বৈরী আবহাওয়ার
হাত থেকে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগে থেকে সতর্ক হলে বীজতলার
তেমন ক্ষতি হবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আফতাব হোসেন
বলেন, ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রা বীজতলার জন্য ক্ষতিকর। এ সময়ে শৈত্যপ্রবাহ থেকে
বীজতলা রক্ষা করতে হবে। বীজতলা পলিথিনে ঢেকে দেওয়া, পানিতে ডুবিয়ে রাখা, সালফারযুক্ত ঔষধ
ছিটানো, জিপসাম ও ইউরিয়া সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

উত্তরাঞ্চলে ঘনকুয়াশায় বোরোর বীজতলা চিন্তিত কৃষক

আপডেট সময় : ১১:২০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪

প্রচন্ড শীত ও ঘনকুয়াশায় রংপুর অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি।
মনে হয় সূর্য মামা অভিমান করে লুকিয়ে আছে। দিনভর থাকছে ঘন কুয়াশা। ফলে বোরো ধানের
বীজতলা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে অঞ্চলের কৃষকগণ। বৈরী আবহাওয়ায় বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায়
দিনরাত পরিশ্রম করছে কৃষকরা। রাতভর পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছে, সন্ধ্যায় পানি জমিয়ে
রেখে ভোরে পানি বের করে দিচ্ছেন। আবার সকাল-সন্ধ্যা চারার গা থেকে লাঠি দিয়ে কুয়াশা ঝরিয়ে
দিচ্ছেন তারা। রোপা আমন কাটা-মাড়াই শেষে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষকগণ বোরো ধান চাষের
প্রস্তুতি নেন। বীজতলা থেকে ৪০-৪৫ দিন বয়সী চারা তুলে জমিতে রোপণ করতে হয়। বীজতলার ১০-১৫
দিন বয়সী সবুজ চারা এখন হলদে বর্ণ হচ্ছে। চারার পরিপূর্ণ বৃদ্ধির সময়ে এ অঞ্চলে ঘন
কুয়াশাসহ বিরাজ করছে বৈরী আবহাওয়া। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ঘন কুয়াশা থেকে বীজতলা
রক্ষায় অনেকে ছত্রাকনাশক ¯েপ্র করছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ার গজঘণ্টা এলাকার কৃষক আব্দুর সবুর বলেন,
এক দোন (২৪ শতক) জমিতে বোরো চাষে চারা কিনতেই যাবে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। বীজতলা
নষ্ট হলে দাম আরও বেড়ে যাবে। এ জন্য তিনি নিজের বীজতলা পরিচর্যা করছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ
উপজেলার নতুন দুলাল গ্রামের শাহজাহান বাদশা মিয়া বলেন , কয়েক দিন আগে তিনি ৩০ কেজি
ধানের বীজতলা করেছেন। ৪/৫ দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় চিন্তিত তিনি। তার বীজতলার
চারা ইতিমধ্যে হলদে রং ধারন করেছে। সকাল-সন্ধ্যা কুয়াশার কবল থেকে রক্ষা করতে পলিথিনে বীজতলা
ঢেকে রাখা হচ্ছে। পানিতে বীজতলা সারারাত ডুবিয়ে রাখা হয়। সকাল হলে ওই সব পানি বীজতলা
থেকে বের করে দেওয়া হয়। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, কুয়াশা ও অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলার চারা হালকা
হলদে রং ধারণ করে। বৃদ্ধি কমে যায়। এক পর্যায়ে লালচে রং নিয়ে চারাগুলো মারা যায়। চাষিরা নানা
উপায়ে বীজতলায় কুয়াশার প্রকোপ ঠেকিয়ে দিতে পারলে চারা কম নষ্ট হবে। কৃষি সম্প্রসারণ
অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের নীলফামারী,
রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার জেলায় ৫ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ
করা হবে। প্রতি হেক্টর জমির বীজতলা থেকে ২০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা যায়। বৈরী আবহাওয়ার
হাত থেকে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগে থেকে সতর্ক হলে বীজতলার
তেমন ক্ষতি হবে না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আফতাব হোসেন
বলেন, ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রা বীজতলার জন্য ক্ষতিকর। এ সময়ে শৈত্যপ্রবাহ থেকে
বীজতলা রক্ষা করতে হবে। বীজতলা পলিথিনে ঢেকে দেওয়া, পানিতে ডুবিয়ে রাখা, সালফারযুক্ত ঔষধ
ছিটানো, জিপসাম ও ইউরিয়া সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে।