০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবারও ঢুকছে বিজিপি

✦চার দিনে এসছেন ৮১ জন
✦গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক টেকনাফ সীমান্তে

 

 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এই সংঘর্ষ ঘিরে ফের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যরা। গতকাল বুধবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার মধ্য রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর পিলারের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ৪৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার দিনে প্রবেশ করছিলেন সেনা ও বিজিপির আরও ১৮ সদস্য। সোমবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশফাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২ সেনা সদস্য পালিয়ে আসেন। রোববার টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসেন বিজিপির ১৪ সদস্য।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার ১২ দিনের মাথায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যসহ (বিজিপি) ৩৩০ নাগরিককে ফেরত নেয় মিয়ানমার। ১৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়া ইনানী নৌ-বাহিনীর জেটিঘাট থেকে জাহাজে করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে গোলগুলির শব্দে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে আছেন। গতকাল সকাল থেকে থেমে টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রাখাইনে বোমা ও মর্টারশেলের বিকট শব্দ ভেসে আসতে থাকে। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়কের আশপাশে গোলার শব্দে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সীমান্তবর্তী পৌরসভার এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে এই সীমান্তে এতই গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বাড়ির পাশে যুদ্ধ চলছে। মাঝখানে বন্ধ থাকলেও বুধবার সকাল থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, সকাল থেকে সীমান্তে ভারী গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিনের তুলনার আজকের গোলার শব্দ বিকট।

 

এদিকে, মিয়ানমার মংডু ও বুথেডংয়ে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফ নদে বিজিবি ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা দিনরাত নাফ নদ ও সীমান্ত সড়কে টহল বৃদ্ধি করেছে। সেটি চলমান এবং যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সবসময় প্রস্তুত বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

 

কোস্টগার্ডের সদরদফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি বলেন, রাখাইনে সংঘাতের কারণে কিছু বিজিপির সদস্য এপারে আশ্রয় নিয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমরা নাফ নদ সমুদ্রেপথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার রেখেছি। পাশাপাশি যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্টগার্ড প্রস্তুত রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও ঢুকছে বিজিপি

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

✦চার দিনে এসছেন ৮১ জন
✦গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক টেকনাফ সীমান্তে

 

 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এই সংঘর্ষ ঘিরে ফের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যরা। গতকাল বুধবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার মধ্য রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর পিলারের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ৪৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার দিনে প্রবেশ করছিলেন সেনা ও বিজিপির আরও ১৮ সদস্য। সোমবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশফাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২ সেনা সদস্য পালিয়ে আসেন। রোববার টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসেন বিজিপির ১৪ সদস্য।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার ১২ দিনের মাথায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যসহ (বিজিপি) ৩৩০ নাগরিককে ফেরত নেয় মিয়ানমার। ১৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়া ইনানী নৌ-বাহিনীর জেটিঘাট থেকে জাহাজে করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে গোলগুলির শব্দে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে আছেন। গতকাল সকাল থেকে থেমে টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রাখাইনে বোমা ও মর্টারশেলের বিকট শব্দ ভেসে আসতে থাকে। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়কের আশপাশে গোলার শব্দে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সীমান্তবর্তী পৌরসভার এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে এই সীমান্তে এতই গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বাড়ির পাশে যুদ্ধ চলছে। মাঝখানে বন্ধ থাকলেও বুধবার সকাল থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, সকাল থেকে সীমান্তে ভারী গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিনের তুলনার আজকের গোলার শব্দ বিকট।

 

এদিকে, মিয়ানমার মংডু ও বুথেডংয়ে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফ নদে বিজিবি ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা দিনরাত নাফ নদ ও সীমান্ত সড়কে টহল বৃদ্ধি করেছে। সেটি চলমান এবং যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সবসময় প্রস্তুত বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

 

কোস্টগার্ডের সদরদফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি বলেন, রাখাইনে সংঘাতের কারণে কিছু বিজিপির সদস্য এপারে আশ্রয় নিয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমরা নাফ নদ সমুদ্রেপথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার রেখেছি। পাশাপাশি যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্টগার্ড প্রস্তুত রয়েছে।