জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইআর) এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে শীতকালীন পিঠা উৎসব। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে
এবং বিভিন্ন জেলার সংস্কৃতি ও পিঠাকে ফুটিয়ে তুলতেই এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করে ইন্সটিটিউটটির অষ্টম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর অফিস ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ উৎসব শুরু হয়। এতে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা হরেক রকমের আকর্ষণীয় পিঠাপুলির প্রদর্শনী ও বেচাকেনার আয়োজন করে।
আকর্ষণীয় এসব পিঠার মধ্যে রয়েছে মালপোয়া, নকশিপিঠা, ঝিনুক পিঠা, ক্ষীর পুলি, দুধ চিতই, গাজরের হালুয়া, নারকেল নাড়ু, সুজির হালুয়া, পাটিসাপটা, গোলাপ পিঠা, চন্দ্রপুলি, বউ পিঠা, মাছ পিঠা ইত্যাদি। প্রতিটি পিঠার শুভেচ্ছা মূল্য ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০ টাকা পর্যন্ত ছিলো।
পিঠা উৎসবের আয়োজক ব্যাচ অষ্টম আবর্তনের শিক্ষার্থী ‘সৃষ্টি রানী দাস’ নিজেও পিঠার স্টল বসিয়েছেন। অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার অনেকদিনের শখ ছিলো আমার হাতে বানানো পিঠা সবাইকে খাওয়াবো, আজকে পিঠা উৎসবের মাধ্যমে আমার হাতে বানানো বিভিন্ন ধরনের পিঠা সবার সামনে তুলে ধরতে পেরেছি। আমার পিঠা সবাই খুব পছন্দ করেছে। সবাই খেয়ে সুন্দর সুন্দর রিভিউ দিচ্ছিলো। সবার সহযোগিতায় একটা সুন্দর পিঠা উৎসব আয়োজন করতে পেরে আমি অনেক খুশি।’
সৃষ্টি আরও বলেন, ‘এই পিঠা উৎসবে কাজ করার মাধ্যমে সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমরা চেষ্টা করেছি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠাগুলোকে এখানে প্রদর্শন করতে। প্রত্যকটি পিঠাই নিজেদের তৈরী করা তাই এই অনুভূতি স্নিগ্ধ।’
অষ্টম আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আলিফ বলেন, ‘আজকের পিঠা উৎসবে সকলে অংশগ্রহণ করে যা ছিল খুবই আনন্দের। যারা পিঠার স্টল দিয়েছে এবং যারা দেয়নি তারা পরস্পরকে সহযোগিতা করে যা আমাদের সম্পর্কের বন্ধনকে আরো মজবুত করে। আমরা সবাই আমাদের সকল ব্যাচমেটদের সাথে আনন্দ করেছি সারাদিন এবং সকলের কাছেই প্রোগামটি অনেক প্রশংসা পেয়েছে।’
শীতকালীন আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে এমন আয়োজন দেখে খুশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলে। এছাড়া আইইআর ইন্সটিটিউট ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের দেখা মিলে।


























