10:58 pm, Tuesday, 28 April 2026

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার ধারাবাহিক ঘটনার জেরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দাবি, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করেই এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) চালানো এসব অভিযানে আফগানিস্তান-এর অন্তত দুটি সীমান্ত প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা

সূত্র অনুযায়ী, আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি নানগারহার প্রদেশেও বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সেনাবাহিনী ‘গোয়েন্দাভিত্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ পরিচালনা করে মোট সাতটি ক্যাম্প ও ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। এসব ঘাঁটি নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর একটি সহযোগী শাখাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউরবান্নু জেলায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনাকারীদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কাবুলকে আহ্বান জানালেও তালেবান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ।

এই বিমান হামলার আগে রোববার বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ জন সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তাড়লাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত এবং প্রায় ১৭০ জন আহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, এসব হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও আদর্শিক প্রস্তুতি আফগানিস্তানেই সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান উল্লেখ করে, ২০২০ সালে কাতারের রাজধানী দোহা-তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে তালেবান আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ প্রয়োজন।

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির অভিযোগ, এসব হামলার বেশিরভাগের জন্য টিটিপি ও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো দায়ী। তবে তালেবান সরকার বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় দেশের সেনা, বেসামরিক মানুষ ও সন্দেহভাজন যোদ্ধাসহ বহু প্রাণহানি ঘটে। কাতারের মধ্যস্থতায় ১৯ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল-এ অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

11 − ten =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

Update Time : ০২:৩৭:০৪ pm, Sunday, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার ধারাবাহিক ঘটনার জেরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দাবি, সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করেই এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) চালানো এসব অভিযানে আফগানিস্তান-এর অন্তত দুটি সীমান্ত প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা

সূত্র অনুযায়ী, আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি নানগারহার প্রদেশেও বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সেনাবাহিনী ‘গোয়েন্দাভিত্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ পরিচালনা করে মোট সাতটি ক্যাম্প ও ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। এসব ঘাঁটি নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর একটি সহযোগী শাখাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউরবান্নু জেলায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনাকারীদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কাবুলকে আহ্বান জানালেও তালেবান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ।

এই বিমান হামলার আগে রোববার বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ জন সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তাড়লাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত এবং প্রায় ১৭০ জন আহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, এসব হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও আদর্শিক প্রস্তুতি আফগানিস্তানেই সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান উল্লেখ করে, ২০২০ সালে কাতারের রাজধানী দোহা-তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে তালেবান আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ প্রয়োজন।

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির অভিযোগ, এসব হামলার বেশিরভাগের জন্য টিটিপি ও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো দায়ী। তবে তালেবান সরকার বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্ত সংঘর্ষে উভয় দেশের সেনা, বেসামরিক মানুষ ও সন্দেহভাজন যোদ্ধাসহ বহু প্রাণহানি ঘটে। কাতারের মধ্যস্থতায় ১৯ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল-এ অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

শু/সবা