কৃষি বাণিজ্যিকীকরণের আওতায় শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের দেওভোগ গ্রামের ৮৫ জন কৃষক সমলয় সমলয় পদ্ধতিতে ৫০ একর
জমিতে হাইব্রিড বোরো আবাদ করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শরীয়তপুর সদরের ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ৫০ একর জমিতে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো আবাদ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচীর আওতায় কৃষককে রোপণের জন্য বীজ, ট্রেতে বীজতলা তৈরী, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণ ও ফসল কর্তনের সময় কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দিও যান্ত্রিক
প্রক্রিয়ায় করা হবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
আজ বুধবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ব্লকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাইনউদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হায়দার শাওন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শরীয়তপুরের উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নুর আহমেদ, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শস্য, মো: রফিকুল ইসলাম, উদ্ভিদ সংরক্ষণ আবুল হোসেন মিয়া, উদ্যান মো: রিয়াজুর রহমান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অলি হালদার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অলি হালদার বলেন, সময়, শ্রম ও খরচ কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় সমলয় পদ্ধতিতে ধান আবাদের মাধ্যমে কৃষককে অধিক লাভবান করতে আমাদের এই কার্যক্রম। কৃষি বিভাগ কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনার মাধ্যমে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ধান কাটার সময়ও কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে জমির ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দিও যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় করা হবে। এর মাধ্যমে আশপাশের কৃষকরাও আগামীতে সমলয় পদ্ধতিতে আবাদ করে লাভবান হবেন বলে আমরা আশাবাদি।
উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নুর আহমেদ বাসস’কে বলেন, কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে সার্বিক কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষককে স্বাবলম্বি করতে বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে আমরা জেলায় সমলয় পদ্ধতি সম্প্রসারণ করতে কাজ করে যাচ্ছি। এই পদ্ধতিতে আবাদ করলে রোপণে কৃষকের সময় সাশ্রয় হবে, শ্রম কম লাগবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে ২০-৪০ শতাংশ ও এক ফসলী জমি দুই ফসলীতে এবং দুই ফসলী জমি তিন ফসলী জমিতে পরিণত হবে। কৃষক লাভবান হবে অর্থনৈতিকভাবে এবং কমবে দেশের উৎপাদন ঘাটতি।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, কৃষকের জন্য ও দেশের জন্য কৃষিকে লাভজনক করতে এই যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা অত্যাবশ্যকীয়। কৃষক স্বাবলম্বি হলে দেশও আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে। আমরা এই প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সমগ্র জেলায় ছড়িয়ে দিতে সকলে মিলে মিশে কাজ করব।


























