০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুরে থোকায় থোকায় মাচায় ঝুলছে সবুজের স্বপ্ন

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের  সাতখামাইর পশ্চিম পাড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোগতা সবুজের বাগানে ফলেছে মিষ্টি আঙুর। বিশাল ক্ষেতে এ মিষ্টি আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তরুণ  ওই কৃষক। তার প্রায় এক বিঘা জমির মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর। তা দেখতে যেমন মানুষ ভিড় করছেন; তেমনই আঙুর চাষের পরামর্শ ও চারা সংগ্রহও করছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা।

এ অঞ্চলের মাটিতে আঙুর চাষ করতে দেখে একসময় যারা সবুজকে  নিয়ে উপহাস করেছিলেন; এখন তারাই হতবাক হয়ে তার গুণগান গাইছেন। আঙুর চাষ নিয়ে ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও দেখেন কৃষক সবুজ । এরপর উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৩ সালে প্রথম বার ঝিনাইদহের মহেশপুরের জগিহুদা গ্রামের আব্দুর রশিদ নিকট থেকে  প্রতি পিস ৫৫০ টাকা দরে ভারতীয় সুপার সনিকা  জাতের ২৫টি চারা কিনে আনেন। শুরু করেন আঙুর চাষ, তবে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি।  চারা রোপণের এগারো  মাসের মধ্যে গাছে ফল আসা শুরু করে। কৃষক সবুজ  আঙুর চাষের পাশাপাশি চারা উৎপাদনও করছেন। তার আঙুরের বাম্পার ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে এ চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। স্থানীয় বিভিন্ন নার্সারি ও ব্যক্তি তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করতে আসছেন। তিনি প্রতিটি আঙুর কলম চারা মাত্র ২০০ টাকা করে বিক্রি করছেন।

কৃষক সবুজ  জানান, প্রথমবার ১১ মাসের মাথায় গাছগুলোয় আঙুর ধরেছে এবং ২০-২৫ মণ ফল পাওয়ার আশা করছেন। গাছে প্রচুর পরিমাণ ফল হয়েছে।  যারা বাগানে আসেন, তাদের তিনি বিনা মূল্যে দেবেন। এ আঙুর গাছে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, আঙুর গাছ ৮ ফুট দূরত্বে লাগানো হয়েছে। এ গাছ লাগানোর আগে জমি প্রস্তুত করে প্রতিটি গর্তে পাঁচ কেজি বিভিন্ন উপাদান দেওয়া হয়। সেগুলো হচ্ছে ইটের গুঁড়া, মোটা বালু ও জৈব সার। এগুলো ৩ ফুট গর্ত করে মাটির সঙ্গে মিশ্রণ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি গাছের গোড়া মাটি দিয়ে উঁচু করা, যাতে পানি না জমে।

আঙুর গাছ যাতে দ্রুত লম্বা হতে পারে তার জন্য উঁচু করে সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে মাচা তৈরি করেছেন। ফলে ঝড়-বৃষ্টি এলে গাছ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা কম থাকে। কৃষক সবুজ  নিজের আঙুর বাগানকে উপজেলার একমাত্র বাগান দাবি করে বলেন, ‘আশা করি এ বছর ভালো ফল পাবো। সাধারণত ৮০-৮৫ দিনে ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। এখন যে ফল দেখছেন, তা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে খাওয়া যাবে। সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয় হলো, এ চাষ যখন শুরু করি; তখন আশপাশের মানুষ বিভিন্নভাবে উপহাস করতে থাকে। অনেকে পাগলও বলেন।তিনি বলেন, ‘দোকানে তো বসতেই পারতাম না। এখন আমার আনন্দ ধরে না। প্রতিদিন আঙুর দেখার জন্য অনেকের সাক্ষাৎ মিলছে। আশা করি এ বছর অনেক লাভবান হতে পারবো। কোনো মানুষের কাছ থেকে কোনোরূপ সহযোগিতা পাইনি। এখন স্থানীয় কৃষি অফিসসহ সব সময় মানুষ পাশে থাকছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে এখন আর তেমন বেশি খরচ নেই।স্থানীয়রা জানান, আঙুর বাগান নিয়ে তার সবুজ  প্রচুর খাটা-খাটুনি করেন। প্রচণ্ড খরার রাতেও বাগানে ২ ঘণ্টা পানি দেওয়ার কাজ করেন। তবে সবুজ একাই বাগানে কাজ করতেন।তার স্ত্রী তাকে মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করেন। তারা এ আঙুর বাগান করে এবার লাভবান বলেও জানান এলাকাবাসী। সাতখামাইর পশ্চিম পাড়া  কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম  বলেন,সবুজ  অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগানে এ আঙুর উৎপাদন করেছেন। পুরো উপজেলায় একমাত্র সবুজই আঙুরের চাষ করেন।

সাতখামাইর  গ্রামের যুবক পারভেজ বেপারী বলেন,সবুজের বাগান দেখে আমরা এলাকার যুবকরা অনুপ্রাণিত। তরুণ কৃষক  পারলে ইনশাআল্লাহ আমরাও পারবো। বিদেশ থেকে না এনে নিজ দেশের চাষাবাদ করা আঙুরের বাজার সৃষ্টির অনুরোধ করছি।একই গ্রামের আরেক যুবক  ইমন বলেন, ‘প্রতিবেশী সবুজ ভাইয়ের  আঙুর বাগান দেখে আমরা অনুপ্রাণিত। এখান থেকে আঙুর চারা নিয়ে নিজেও চাষ করবো।

শ্রীপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা   বলেন, ‘গত বছর তিনি ২৫টি চারা দিয়ে আঙুর চাষ শুরু করেন। খুব বেশি ফলন না হলেও তিনি সেটি রেখে দিয়েছেন। আমাদের কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সার ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরও বৃহদাকারে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে । তিনি এখানে জৈবিক বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়াই এবার আঙুরের চাষ করছেন।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

শ্রীপুরে থোকায় থোকায় মাচায় ঝুলছে সবুজের স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের  সাতখামাইর পশ্চিম পাড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোগতা সবুজের বাগানে ফলেছে মিষ্টি আঙুর। বিশাল ক্ষেতে এ মিষ্টি আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তরুণ  ওই কৃষক। তার প্রায় এক বিঘা জমির মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর। তা দেখতে যেমন মানুষ ভিড় করছেন; তেমনই আঙুর চাষের পরামর্শ ও চারা সংগ্রহও করছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা।

এ অঞ্চলের মাটিতে আঙুর চাষ করতে দেখে একসময় যারা সবুজকে  নিয়ে উপহাস করেছিলেন; এখন তারাই হতবাক হয়ে তার গুণগান গাইছেন। আঙুর চাষ নিয়ে ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও দেখেন কৃষক সবুজ । এরপর উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৩ সালে প্রথম বার ঝিনাইদহের মহেশপুরের জগিহুদা গ্রামের আব্দুর রশিদ নিকট থেকে  প্রতি পিস ৫৫০ টাকা দরে ভারতীয় সুপার সনিকা  জাতের ২৫টি চারা কিনে আনেন। শুরু করেন আঙুর চাষ, তবে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি।  চারা রোপণের এগারো  মাসের মধ্যে গাছে ফল আসা শুরু করে। কৃষক সবুজ  আঙুর চাষের পাশাপাশি চারা উৎপাদনও করছেন। তার আঙুরের বাম্পার ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে এ চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। স্থানীয় বিভিন্ন নার্সারি ও ব্যক্তি তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করতে আসছেন। তিনি প্রতিটি আঙুর কলম চারা মাত্র ২০০ টাকা করে বিক্রি করছেন।

কৃষক সবুজ  জানান, প্রথমবার ১১ মাসের মাথায় গাছগুলোয় আঙুর ধরেছে এবং ২০-২৫ মণ ফল পাওয়ার আশা করছেন। গাছে প্রচুর পরিমাণ ফল হয়েছে।  যারা বাগানে আসেন, তাদের তিনি বিনা মূল্যে দেবেন। এ আঙুর গাছে ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, আঙুর গাছ ৮ ফুট দূরত্বে লাগানো হয়েছে। এ গাছ লাগানোর আগে জমি প্রস্তুত করে প্রতিটি গর্তে পাঁচ কেজি বিভিন্ন উপাদান দেওয়া হয়। সেগুলো হচ্ছে ইটের গুঁড়া, মোটা বালু ও জৈব সার। এগুলো ৩ ফুট গর্ত করে মাটির সঙ্গে মিশ্রণ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি গাছের গোড়া মাটি দিয়ে উঁচু করা, যাতে পানি না জমে।

আঙুর গাছ যাতে দ্রুত লম্বা হতে পারে তার জন্য উঁচু করে সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে মাচা তৈরি করেছেন। ফলে ঝড়-বৃষ্টি এলে গাছ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা কম থাকে। কৃষক সবুজ  নিজের আঙুর বাগানকে উপজেলার একমাত্র বাগান দাবি করে বলেন, ‘আশা করি এ বছর ভালো ফল পাবো। সাধারণত ৮০-৮৫ দিনে ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। এখন যে ফল দেখছেন, তা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে খাওয়া যাবে। সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয় হলো, এ চাষ যখন শুরু করি; তখন আশপাশের মানুষ বিভিন্নভাবে উপহাস করতে থাকে। অনেকে পাগলও বলেন।তিনি বলেন, ‘দোকানে তো বসতেই পারতাম না। এখন আমার আনন্দ ধরে না। প্রতিদিন আঙুর দেখার জন্য অনেকের সাক্ষাৎ মিলছে। আশা করি এ বছর অনেক লাভবান হতে পারবো। কোনো মানুষের কাছ থেকে কোনোরূপ সহযোগিতা পাইনি। এখন স্থানীয় কৃষি অফিসসহ সব সময় মানুষ পাশে থাকছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে এখন আর তেমন বেশি খরচ নেই।স্থানীয়রা জানান, আঙুর বাগান নিয়ে তার সবুজ  প্রচুর খাটা-খাটুনি করেন। প্রচণ্ড খরার রাতেও বাগানে ২ ঘণ্টা পানি দেওয়ার কাজ করেন। তবে সবুজ একাই বাগানে কাজ করতেন।তার স্ত্রী তাকে মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করেন। তারা এ আঙুর বাগান করে এবার লাভবান বলেও জানান এলাকাবাসী। সাতখামাইর পশ্চিম পাড়া  কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম  বলেন,সবুজ  অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগানে এ আঙুর উৎপাদন করেছেন। পুরো উপজেলায় একমাত্র সবুজই আঙুরের চাষ করেন।

সাতখামাইর  গ্রামের যুবক পারভেজ বেপারী বলেন,সবুজের বাগান দেখে আমরা এলাকার যুবকরা অনুপ্রাণিত। তরুণ কৃষক  পারলে ইনশাআল্লাহ আমরাও পারবো। বিদেশ থেকে না এনে নিজ দেশের চাষাবাদ করা আঙুরের বাজার সৃষ্টির অনুরোধ করছি।একই গ্রামের আরেক যুবক  ইমন বলেন, ‘প্রতিবেশী সবুজ ভাইয়ের  আঙুর বাগান দেখে আমরা অনুপ্রাণিত। এখান থেকে আঙুর চারা নিয়ে নিজেও চাষ করবো।

শ্রীপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা   বলেন, ‘গত বছর তিনি ২৫টি চারা দিয়ে আঙুর চাষ শুরু করেন। খুব বেশি ফলন না হলেও তিনি সেটি রেখে দিয়েছেন। আমাদের কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সার ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরও বৃহদাকারে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে । তিনি এখানে জৈবিক বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়াই এবার আঙুরের চাষ করছেন।