১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অপরাধ দমনে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৯ মাস পরও শৃঙ্খলায় ফিরতে পারেনি পুলিশ বাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিএনপিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসব আন্দোলন ঠেকাতে রীতিমতো পুলিশ ব্যস্ত থাকায় জুলাই গণহত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত আসামি গ্রেপ্তারসহ সমাজের নানা অপরাধ দমনে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। গত ৩ মাসে রাজধানীতে খুন-মাদক ও নারি নির্যাতনসহ অন্যান্য অপরাধ বেড়েছে ২২ শতাংশ। ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। গত ৯ মাসে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৬৫ জন নিহত হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজপথের আন্দোলন মোকাবিলার পাশাপাশি নগরীর অপরাধ দমনে তালিকা ধরে আসামি গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাবি’র সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হকের মতে, বর্তমানে রাজপথে যে ধরনের আন্দোলন চলছে, তাতে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আন্দোলন থামাতে গিয়ে অপরাধ দমন করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভভ নয়। এতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইন্ধন দিচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখা দরকার। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলছেন, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ না থাকলে ছন্দপতন চলতেই থাকবে। পুলিশকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরে পুলিশকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও সংগঠনের আন্দোলন, মিছিল-সমাবেশ ও একে কেন্দ্র করে ঘটা সহিংসতা মোকাবিলায় কাজ করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও অবরোধের মতো কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান আন্দোলন কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ তৎপর থাকার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র। রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন দমাতে গিয়ে অপরাধী গ্রেপ্তারে সময় দিতে পারছে না পুলিশ। বিশেষ করে জুলাই গণহত্যার মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজদানীর বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বিশেষ বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় পুলিশের মূল দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে রাজধানীতে খুন, ছিনতাই, মাদক ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে গড়ে ২২ শতাংশ। ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। কিন্তু এসব অপরাধ ঠেকাতে মাঠে পর্যাপ্ত টহল নেই।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র বলেছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পুলিশের ব্যাপক রদবদলসহ নানা কারণে এখনো গুছিয়ে উঠতে পারেনি পুলিশ বাহিনী। এরই মধ্যে কিছু অপ্রত্যাশিত কাজ করতে হওয়ায় মাঠের পুলিশ বাড়তি চাপে পড়ছে। সূত্র জানিয়েছে, বাহিনীর বড় অংশকে রাজনীতিকেন্দ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এর ফলে অপরাধ দমনে বা অপরাধী গ্রেপ্তারে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছে না পুলিশ।
সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীকে যেসব বড় কাজে উল্লেখযোগ্য রকম সময় ও শ্রম দিতে হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিজেদের দ্বন্দ্বজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি ও গ্রেপ্তার, মহানগরগুলোয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ মোকাবিলা ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংকট।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসানে নতুন উদ্যমে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সূত্রে মাথাচাড়া দিয়েছে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে মাঝেমধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সংঘর্ষ হচ্ছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত বছরের আগস্ট থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব সংঘাত নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রাখতে হচ্ছে।
এছাড়া, ছাত্র-জনতার ওপর হত্যা-নির্যাতন চালানোর দায়ে জুরাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের স্থাপনা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। অন্তর্র্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়সহ ব্যাপক রদবদল করে। ১৮৭ পুলিশ এখনো পলাতক। শীর্ষ পর্যায় থেকে থানা স্তরের কর্মকর্তারা নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, রাজনৈতিক চাপ সামলানো এবং পেশাগত নীতি বজায় রাখা, এই ত্রিমুখী চাপের মুখে রয়েছে পুলিশ বাহিনী।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহু মামলা হয়েছে। জুলাই ও আগস্টের মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার সরকারি তাগিদ থাকায় পুলিশের প্রতিটি বিশেষ ইউনিট ও তদন্ত সংস্থা এ কাজে ব্যস্ত থাকছে। গত মাসে দেশের সব থানার পুলিশকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
ঢাবি’র সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, বর্তমানে রাজপথে যে ধরনের আন্দোলন চলছে, তাতে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আন্দোলন থামাতে গিয়ে অপরাধ দমন করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভভ নয়। এতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইন্ধন দিচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ না থাকলে এ ধরনের ছন্দপতন চলতেই থাকবে। পুলিশকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার, মামলার তদন্তসহ অন্যান্য দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে থাকে। একটি দায়িত্বের ওপর অন্যটির প্রভাব পড়ার কোনো অবকাশ নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা রোধে ও সমাজের অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

অপরাধ দমনে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৯ মাস পরও শৃঙ্খলায় ফিরতে পারেনি পুলিশ বাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিএনপিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসব আন্দোলন ঠেকাতে রীতিমতো পুলিশ ব্যস্ত থাকায় জুলাই গণহত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত আসামি গ্রেপ্তারসহ সমাজের নানা অপরাধ দমনে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। গত ৩ মাসে রাজধানীতে খুন-মাদক ও নারি নির্যাতনসহ অন্যান্য অপরাধ বেড়েছে ২২ শতাংশ। ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। গত ৯ মাসে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৬৫ জন নিহত হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজপথের আন্দোলন মোকাবিলার পাশাপাশি নগরীর অপরাধ দমনে তালিকা ধরে আসামি গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাবি’র সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হকের মতে, বর্তমানে রাজপথে যে ধরনের আন্দোলন চলছে, তাতে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আন্দোলন থামাতে গিয়ে অপরাধ দমন করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভভ নয়। এতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইন্ধন দিচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখা দরকার। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলছেন, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ না থাকলে ছন্দপতন চলতেই থাকবে। পুলিশকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরে পুলিশকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও সংগঠনের আন্দোলন, মিছিল-সমাবেশ ও একে কেন্দ্র করে ঘটা সহিংসতা মোকাবিলায় কাজ করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও অবরোধের মতো কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান আন্দোলন কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ তৎপর থাকার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র। রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন দমাতে গিয়ে অপরাধী গ্রেপ্তারে সময় দিতে পারছে না পুলিশ। বিশেষ করে জুলাই গণহত্যার মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজদানীর বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বিশেষ বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় পুলিশের মূল দায়িত্ব পালনে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে রাজধানীতে খুন, ছিনতাই, মাদক ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে গড়ে ২২ শতাংশ। ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। কিন্তু এসব অপরাধ ঠেকাতে মাঠে পর্যাপ্ত টহল নেই।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র বলেছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পুলিশের ব্যাপক রদবদলসহ নানা কারণে এখনো গুছিয়ে উঠতে পারেনি পুলিশ বাহিনী। এরই মধ্যে কিছু অপ্রত্যাশিত কাজ করতে হওয়ায় মাঠের পুলিশ বাড়তি চাপে পড়ছে। সূত্র জানিয়েছে, বাহিনীর বড় অংশকে রাজনীতিকেন্দ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এর ফলে অপরাধ দমনে বা অপরাধী গ্রেপ্তারে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছে না পুলিশ।
সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীকে যেসব বড় কাজে উল্লেখযোগ্য রকম সময় ও শ্রম দিতে হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিজেদের দ্বন্দ্বজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি ও গ্রেপ্তার, মহানগরগুলোয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ মোকাবিলা ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংকট।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসানে নতুন উদ্যমে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সূত্রে মাথাচাড়া দিয়েছে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে মাঝেমধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সংঘর্ষ হচ্ছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গত বছরের আগস্ট থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব সংঘাত নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রাখতে হচ্ছে।
এছাড়া, ছাত্র-জনতার ওপর হত্যা-নির্যাতন চালানোর দায়ে জুরাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের স্থাপনা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। অন্তর্র্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়সহ ব্যাপক রদবদল করে। ১৮৭ পুলিশ এখনো পলাতক। শীর্ষ পর্যায় থেকে থানা স্তরের কর্মকর্তারা নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, রাজনৈতিক চাপ সামলানো এবং পেশাগত নীতি বজায় রাখা, এই ত্রিমুখী চাপের মুখে রয়েছে পুলিশ বাহিনী।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহু মামলা হয়েছে। জুলাই ও আগস্টের মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার সরকারি তাগিদ থাকায় পুলিশের প্রতিটি বিশেষ ইউনিট ও তদন্ত সংস্থা এ কাজে ব্যস্ত থাকছে। গত মাসে দেশের সব থানার পুলিশকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
ঢাবি’র সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, বর্তমানে রাজপথে যে ধরনের আন্দোলন চলছে, তাতে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আন্দোলন থামাতে গিয়ে অপরাধ দমন করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভভ নয়। এতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইন্ধন দিচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ না থাকলে এ ধরনের ছন্দপতন চলতেই থাকবে। পুলিশকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তার, মামলার তদন্তসহ অন্যান্য দায়িত্ব গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে থাকে। একটি দায়িত্বের ওপর অন্যটির প্রভাব পড়ার কোনো অবকাশ নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা রোধে ও সমাজের অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা।