1:32 am, Friday, 22 May 2026

“অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার” — শুভেন্দু

অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হলে আইনি জটিলতায় না গিয়ে দ্রুত সীমান্ত পার করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাওড়ায় আরপিএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার।” পেট্রাপোল-বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিনের বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি, নগর উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা, হাওড়া শহরের জেলাশাসক, পুলিশ কর্মকর্তা, পৌর প্রতিনিধিসহ পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে হাওড়া শহর ও স্টেশন এলাকার পানি নিষ্কাশন, যানজট ও বেআইনি দখলমুক্তকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রেল বিভাগ ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে প্রশাসনিক আলোচনার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন, হাওড়া স্টেশন এলাকায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসনের একাংশের মতে, সামনে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত ও পরিচয় রাজনীতিকে সামনে আনছে বিজেপি। বিশ্লেষকদের ধারণা, হাওড়া-বালি পৌরভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই এই কড়াকড়ি অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

শপথ নেওয়ার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে ‘কাজের সরকার’ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু। হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে প্রশাসন, রেল সমন্বয় এবং সীমান্ত নীতিকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে তিনি রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এর আগে সকালে তিনি বেলুড় মঠে যান এবং সেখানে কিছু সময় অবস্থান করেন। পরে দুপুরে হাওড়া জেলাশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে তিনি দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে। দিল্লিতে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

14 − eleven =

About Author Information

Popular Post

জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের উদ্যোগে ‘অ্যাস্ট্রোনমি টু প্যালিওন্টোলজি’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

“অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার” — শুভেন্দু

Update Time : ০৫:৩২:৩০ pm, Thursday, ২১ মে ২০২৬

অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হলে আইনি জটিলতায় না গিয়ে দ্রুত সীমান্ত পার করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাওড়ায় আরপিএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার।” পেট্রাপোল-বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিনের বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি, নগর উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা, হাওড়া শহরের জেলাশাসক, পুলিশ কর্মকর্তা, পৌর প্রতিনিধিসহ পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে হাওড়া শহর ও স্টেশন এলাকার পানি নিষ্কাশন, যানজট ও বেআইনি দখলমুক্তকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রেল বিভাগ ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে প্রশাসনিক আলোচনার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন, হাওড়া স্টেশন এলাকায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসনের একাংশের মতে, সামনে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত ও পরিচয় রাজনীতিকে সামনে আনছে বিজেপি। বিশ্লেষকদের ধারণা, হাওড়া-বালি পৌরভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই এই কড়াকড়ি অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

শপথ নেওয়ার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে ‘কাজের সরকার’ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু। হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে প্রশাসন, রেল সমন্বয় এবং সীমান্ত নীতিকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে তিনি রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এর আগে সকালে তিনি বেলুড় মঠে যান এবং সেখানে কিছু সময় অবস্থান করেন। পরে দুপুরে হাওড়া জেলাশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে তিনি দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে। দিল্লিতে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শু/সবা