১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যা ইস্যুতে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেবে অন্তর্বর্তী সরকার

রাজধানীতে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সরকার দাবি করেছে, আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগে থেকেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগ করেনি।

শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের গাড়ির ওপর উঠে পড়লে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সরকার বলেছে, ওই ঘটনায় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ আইনানুগভাবেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও জানিয়েছে, এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

অন্তর্বর্তী সরকার বিবৃতিতে আরও জানায়, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে সরকার বলেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। প্রায় ১৮ কোটি মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার দেশের নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যা ইস্যুতে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেবে অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেট সময় : ০৮:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সরকার দাবি করেছে, আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগে থেকেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বল প্রয়োগ করেনি।

শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের গাড়ির ওপর উঠে পড়লে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। সরকার বলেছে, ওই ঘটনায় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ আইনানুগভাবেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও জানিয়েছে, এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

অন্তর্বর্তী সরকার বিবৃতিতে আরও জানায়, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে সরকার বলেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। প্রায় ১৮ কোটি মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার দেশের নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

শু/সবা